মঙ্গোলীয়দের বহিঃরাক্রমণ, নির্যাতন ও গণহত্যার কারণে তুর্কি গোত্রগুলো মধ্য এশিয়া ছেড়ে পালিয়ে যায়। ওঘুজ তুর্কিদের মধ্যে কায়ী গোত্র চারশোটি বিশাল বেদুঈন তাবু গেড়ে আনাতোলিয়ায় আশ্রয় নেয়। কিন্তু দুর্ভিক্ষের কারণে তাদেরকে এক কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। এসকল বেদুঈন নতুন জীবন শুরু করার জন্য কোন নিরাপদ এলাকা খুঁজছিল। এই গোত্রের প্রধান ছিলেন সুলায়মান শাহ (সরদার আকা) এবং তার চার পুত্র গুনদারো, সুঙ্গুরতাকিন, আরতুগ্রুল ও দুন্দার তার সাথে ছিল।
আর্তুগ্রুল (এনজিন আলতান দুজিয়াতান) ছিল সুলায়মান শাহের কনিষ্ঠ পুত্র এবং একজন সাহসী পুরুষ। সে প্রায়শই তার তিন ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে সাথে নিয়ে শিকারে বের হত। এরকম এক দিনে, তারা নাইটস টেম্পলার-এর নাইটদের বহনকৃত বন্দীদের মুখোমুখি হয়। এরতুগ্রুল ও তার তিন বন্ধু সকল নাইটকে হত্যা করে হালিমা হাতুন (ইসরা বিলগিস) নামের এক মেয়ে ও তার পরিবারকে উদ্ধার করে। তারা তাদের আসল পরিচয় না জেনেই নিজ গোত্রে নিয়ে আসে। হালিমা ও তার পরিবার সেলজুক সাম্রাজ্যের এক অভিজাত পরিবারের সদস্য ছিল এবং আরতুগ্রুল না এলে তাদের প্রাণদণ্ড হতো। ধরা পড়ার ভয়ে, তারা তাদের আসল পরিচয় গোপন রাখে। যাই হোক, তাদের আগমনে কায়ী গোত্রে নতুন সমস্যা দেখা দেয়, সেলজুক সাম্রাজ্যকে যুদ্ধের হুমকি দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দিতে বলা হয় এবং নাইট টেম্পলারসগণ প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। এ কারণে বেদুঈনেরা সুলায়মান শাহকে একজন খারাপ নেতা হিসেবে দোষ দিতে থাকে। এই ঘটনায় সুলায়মানের জ্ঞাতি ভাই কুরদুগলু তার গোপন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পায়। সুলায়মান দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে আরতুগ্রুলকে নতুন আবাস অনুসন্ধানের অভিযানে পাঠান। ফলে, আরতুগ্রুল ও তার তিন বন্ধু সুলতানের সঙ্গে চুক্তির লক্ষ্যে আলেপ্পোয় যায়। তারা এমন সব ধারাবাহিক প্রেক্ষাপট পাড়ি দেয় যেগুলো চূড়ান্তভাবে উসমানীয় সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করবে।